26 Jul 2025

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ, ৫ হাজারে সেবা

 

উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেতে বা অনেক কোম্পানিতে চাকরি কিংবা ভিসা ও ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। মূলত একটি সরকারি নথি যা প্রমাণ করে, কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত নয় এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। কিন্তু পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে পদে পদে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মোটা অংকের ঘুষ দাবি করা হয়েছে। পরে টাকা দিলে পাওয়া যায় এ সার্টিফিকেট।এমন ঘটনার শিকার মাদারীপুরের বালিগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা শফিক মুন্সি (ছদ্মনাম) কথা হয় তার সঙ্গে। 



তিনি জানান, পাসপোর্টে তার থানার ঠিকানা কালকিনি আর ভোটার আইডি কার্ডে থানা দেয়া ডাসার। 
অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করেন তিনি। কয়েক দফা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ও ডাসার থানায় গিয়েও পাননি সেবা। শেষমেশ চলে আসেন কালকিনি থানায়। সেখানে যোগাযোগ করেন কালকিনি থানার কম্পিউটার অপারেটর মো. সোহেল খানের সঙ্গে। গ্যারান্টি দেন পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়ার। এজন্য পুলিশের এ সদস্যকে দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা। টাকা না দিলে কোনো অবস্থাতেই মিলবে না এ সার্টিফিকেট। 



এমন কী অন্য কেউ শফিক মুন্সিকে সহযোগিতাও করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন পুলিশ সদস্য। শেষমেশ ৫ হাজার টাকা নগদ সোহেলের হাতে তুলে দিলে পহেলা জুলাই অনলাইনে আবেদন করিয়ে ১৫ দিনের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন থানার এই কম্পিউটার অপারেটর। গত ২০ জুলাই জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন এই ভুক্তভোগী।


অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. সোহেল খান বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়নি। আপনার কোনো কথা থাকলে থানার ওসি স্যারের সাথে থানায় এসে কথা বলেন।’


কালকিনির থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, ‘যে ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাকে থানায় আসতে বলেন। আমি তার সাথে কথা বলি, বিষয়টি কী হয়েছে জানার চেষ্টা করি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কোনো টাকা লাগার কথা নয়।’


মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘অভিযোগের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ওই পুলিশ সদস্য কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’প্রসঙ্গত, কালকিনি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় ডাসার থানা। পরে ঘোষণা হয় ডাসার উপজেলারও। ঝক্কিঝামেলা এড়াতে ডাসার থানার অনেক পাসপোর্টধারী পুরনো ঠিকানা অর্থাৎ কালকিনি থানা ব্যবহার করছেন। এতেই পড়তে হচ্ছে নানাবিধ সমস্যায়। এক বছর ধরে কালকিনি থানার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে আছেন পুলিশ সদস্য মো. সোহেল খান।

শেয়ার করুন

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 coment rios: